![]() |
| ফাঁসির আসামিদের জীবনের শেষ কয়েক ঘন্টা ! |
শুনলে শিউরে উঠবেন ফাঁসির আসামিদের ফাঁসি কিভাবে কার্যকর করা হয়। একজন
ফাঁসির আসামি শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করেন যে তাকে কোনো দৈবশক্তি এসে রক্ষা
করবে। এমনকি পেছনে হাত বাধা ও গলায় দড়ি পড়ানো অবস্থায় এক পৃথিবী থেকে অন্য
পৃথিবীতে যাওয়ার মাঝখানে দেয়াল একটি মাত্র রুমাল।
নিড়বে দাড়িয়ে সে
তখন ভাবতে থাকে এই বুঝি তাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে এলো। আমাদের আজকের এই
আর্টিকেলে আমরা আপনাদের জানাতে চলেছি ফাঁসির আসামিদের ফাঁসি কিভাবে কার্যকর
করা হয়। যা শুনলে আপনারা আরো একবার বুঝতে পাবেন যে, মৃত্যু কতটা ভয়ানক হয়ে
থাকে।
জীবনের মাহাত্যটা আরো একবার বুঝতে পারবেন। তো বন্ধুরা আর
দেরি না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক ফাঁসির আসামিদের ভয়ানক সেই পরিনতির
সম্পর্কে।
আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফাঁসির আসামিদের করুন কাহিনী
শুনে থাকি। একজন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি যতই ঘৃন্য হোক না কেন তার শেষ
ইচ্ছা পালনের চেষ্টা করা হয়। চেষ্টা করা হয় তার মৃত্যুটিকে যতটা সম্ভব
আরামদায়ক করার জন্য।
মৃত্যু দন্ড দেওয়ার পদ্ধতিকে আরাম দায়ক করতে
বিজ্ঞানিরা বিভিন্ন গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এর ধারাবাহিকতাতেই
ইলেকট্রিক-চেয়ার ও ইনজেনশন এর মাধ্যমে মৃত্যু দন্ড দেওয়ার পদ্ধতি বিভিন্ন
দেশে চালু আছে। তবে যত পদ্ধতিই আবিস্কার করা হোক না কেন মৃত্যু তো মৃত্যুই
হয়ে থাকে।
আইনের সকল ফর্মালিটি সম্পন্ন করার পরে মৃত্যু দন্ডের
রায়ের আসামিকে নিয়ে আসা হয় কন্ডেম সেলে। সেখানে শুধু ফাঁসির আসামিরাই থাকে।
তাদের এই থাকার জায়গাটা অনেকটাই ওয়েটিং রুমের মতো। কিন্ত এটা সাধারন কোনো
ওয়েটিং রুম নয়। এখানে ফাঁসির আসামিদের অনেকদিন পর্যন্ত রাখা হয়। তার সাথে
যথা সম্ভব ভালো ব্যবহার করা হয়।
বিদেশ থেকে আনা দড়ি, সাধারণত
জার্মানি থেকে বিশেষ এই দড়ি আনা হয়। নিয়ম করে বেশ কয়েকবার দড়িতে মাখানো হয়
সবড়ি-কলা এবং মাখন। এক বিশেষ পদ্ধতিতে জল্লাদ নির্বাচন করা হয়। আর সেই
জল্লাদও একজন সাজা প্রাপ্ত আসামিই হয়ে থাকে।
প্রতিটি ফাঁসি কার্যকর
করার ফলে জল্লাদ-দের দুই মাসের সাজা কমে যায়। আসামির সম-ওজনের বালির বস্তা
দিয়ে কয়েকবার ফাঁসির প্রাকটিস করা হয়। এটা করা হয় ফাঁসি কার্যকরের কয়েক দিন
আগেই। কন্ডেম সেলে ফাঁসির আসামির আত্মীয় স্বজনদের সাথে শেষ বারের মতো দেখা
করানো হয়।
তবে ফাঁসি কবে কার্য হবে তা ফাঁসির আসামি বা তার আত্মীয়
স্বজনদেরকে বুঝতে দেওয়া হয় না। সাধারণত রাত ১০ থেকে সাড়ে ১০ টায় কারাগারের
মসজিদের ইমাম কে সাথে নিয়ে জেল সুপার কন্ডেম সেলে যান। তখনি কয়েদি বুঝতে
পারেন আজই তার জীবনের শেষ রাত।
রাত সাড়ে ১১ টা মধ্যেই তাওবা পড়ানোর
কাজ শেষ হয়ে যায়। এবং অন্যন্য ধর্মালম্বীদেরকে তাদের ধর্মীয় নিয়ম সীতি
অনুসারে যাবতীয় কার্যকলাপ সম্পন্ন করা হয়। ১২ টা বাজার পাঁচ মিনিট আগে তার
গলায় জং টুপি এবং দড়ি পড়ানো হয়। জেল সুপার হাতে রুমাল নিয়ে মঞ্চের পাশে
দাড়িয়ে থাকেন।
সাথে দাড়িয়ে থাকেন অন্যন্য অতিথীরা। জল্লাদের চোখ তখন
রুমালের দিকে। ওই মুহূর্তে এই রুমাল ঐ একজন মানুষকে এপার থেকে ওপাড়ে
পাঠিয়ে দেওয়ার ভূমিকা পালন করে। আসামির চোখে মুখে অন্ধকার দাঁতে দাঁত কিটে
থাকে। আসামির গলাটাকে দড়ির সাথে এমন ভাবে লাগানোর চেষ্টা করে যাতে করে
ব্যাথাটা কম লাগে।
কিন্তু বিশাল এই দেহের ভার কি আর গলা সইতে পারে?
আসামি ধর্মীয় দোয়া বা মন্ত্র পাঠ করতে থাকে আর মনে মনে অপেক্ষা করতে থাকে
কোনো এক দৈব শক্তির। কান খাড়া করে রাখে এই বুঝি কেউ একজন বলে উঠবে স্টপ। এই
আসামির আর ফাঁসি হবে না।
চোখের সামনে ভাসতে থাকে প্রিয় মানুষ গুলোর
মমতা ভরা মুখ। তাদের মুখ গুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে আর হৃদয় কেপে ওঠে। মনে
হয় যেকোনো কিছুর বিনিময়ে যদি আর কিছু দিন ওদের সাথে কাটাতে পাড়তাম! প্রিয়
মানুষ গুলোকে যদি একটু জরিয়ে ধরতে পারতাম।
একজন ফাঁসির দড়িতে
আত্মহত্যা কারী ব্যাক্তি এবং মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত ফাঁসির আসামির মৃত্যুর
মধ্যে অনেকটা পার্থক্য রয়েছে। আত্মহত্যা কারী পৃথিবীর প্রতি বিতৃষ্ণার
কারনে আত্যহত্যা করে। তাছাড়া সেই মুহূর্তে তার কাছে কোনো সঠিক জ্ঞানও থাকে
না। জীবনটা এক মুহুর্তের মধ্যেই শেষ করে দেয়।
আর ফাঁসির আসামি
যথেষ্ট অন্যায় করে এবং তা উপলব্ধি করার যথেষ্ট সময়ও পায়। ফাঁসির আসামি
যাদের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য অপরাধ গুলো করে শেষ সময়ে তারা কেউই পাশে থাকে
না। যারা থাকে সেগুলো হলো সব অপরিচিত মুখ।
সেই ফাঁসির আসামির প্রতি
সেই অপরিচিত মানুষগুলোর মনের মধ্যে জমে থাকে ঘৃনা। শেষ মুহূর্তে সেই আসামি
বিন্দুমাত্র সহায়তাও কারোর কাছ থেকে পায় না। সেই মানুষ গুলো তখনো যে যার
কাজে ব্যাস্ত থাকে। স্বজনদের মতো মায়া ভরা কন্ঠ এখানে করোর নেই। গাঁয়ে হাত
বুলিয়ে দেওয়ার মতোও কেউ নেই।
তার কষ্ট বা ব্যাথ্যা অনুভব করার মতোও
কেউ নেই। যত রর দুর্ধর্ষ ব্যাক্তিই হোক না কেন? এই সময়টাতে সেই ব্যাক্তি
পৃথিবী সবথেকে অসহায় ব্যাক্তি হিসেবে নিজেকে মনে করে। একজন মানুষ যখন
উত্তেজনায় থাকে তখন ভবিষ্যত পরিণতি সম্পর্কে ভাবার মতো জ্ঞান তার মাথায় থাকে না।
আর মানুষ সেই সময়টাতেই ঘটায় যত অঘটন। আর এজন্যই মনিষিরা বলে থাকেন জীবনে দুটো সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনোই উচিত নয়।
১. খুবই রাগান্বিত অবস্থায়
২. খুবই আনন্দঘন অবস্থায়
এই
দুটো মুহূর্তে সিদ্দান্ত নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ ভাগ থেকে যায়।
সর্বশেষ ১২ টা ৫ মিনিটে ফাঁসির আসামির পায়ের নিঁচ থেকে পাটাতন সড়ে যায়।
গলায় আটকে যায় মোটা দড়ি, শুর হয়ে যায় এক রহস্যময় যাত্রা। দশ মিনিট পর্যন্ত
ফাঁসির আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
এরপরে একজন ডাক্তার
এসে সেই ফাঁসির আসামির মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর থেকে সেই মৃত ব্যাক্তির
প্রয়োজন হয় না খাবার কিংবা পানির। তার রাতে খাওয়া খাবার গুলো দেহের আর কোনো
কাজে আসে না। সেগুলো পাকস্থলিতে পড়ে থাকে একেবারে নিড়ব হয়ে।
মৃত্যুর
আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ফাঁসির আসামি ফিরে যেতে চায় তার অতিতে। আর তখন ইচ্ছে
হয় আমি অতিতে গিয়ে আমার ভুল গুলো সংশোধন করবো। আর আমি যদি এটা করতে পারতাম
আমিও ভালো মানুষদের মতো জীবন যাপন করতে পারতাম এই পৃথিবীতে। সেই মুহূর্তে
ফাঁসির আসামির ভুল গুলো মুঁছে দিয়ে নতুন করে লিখতে চায় জীবনের অধ্যায়।
আমরাও
এই একই পথের যাত্রী। আমরা শুধু জানতে পারি না আমাদের মৃত্যুর সময়খন।
আমাদের যেন শেষ মুহূর্তে গিয়ে অতীতে ফিরে এসে জীবনের অধ্যায় নতুন করে লেখার
ইচ্ছে জাগ্রত না হয়।
সেজন্য জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি
সেকেন্ড প্রতিটি মিনিট সৎভাবে অতিবাহিত করতে হবে। কারন জীবনের গল্প গুলোর
অক্ষর মুছে ফেলার মতো কোনো ফ্লইড নেই। আরো একটা জিনিস ভাবতে হবে ফাঁসির
আসামি শুধু নিজের জীনটা নিয়ে পরকালের পথে পাড়ি জমায় না।
তার পরিবারকেও একটা জীবন্ত লাশ করে রেখে যায়। আর এভাবেই ফাঁসির আসামির পরিবার জীবন্ত লাশ হয়ে বাকি জীবন পার করতে থাকে।
আর এভাবেই সমাপ্ত হয় একজন মুত্যু দন্ড প্রাপ্ত ফাঁসির আসামির জীবনের অধ্যায়।

0 Comments